মাসিক বা ঋতুস্রাব সংক্রান্ত কিছু ভুল ধারনা

আজও আমাদের দেশের অনেক জায়গায় ঋতুস্রাব নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে চান না অনেকেই। আমার নিজের মনে আছে, যখন আমি প্রথমবার ঋতুমতী হয়েছিলাম, অনেক ছোট ছিলাম বলে খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম; কিন্তু আমার বাড়িতে বড়রা আমার সেই ভয় ভাঙ্গানো তো দূরের কথা, period যে একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সেটাও বলার প্রয়োজন মনে করেননি। উল্টে আমাকে বলা হয়েছিল, “কাউকে বলবে না কিন্তু!”

আজও অনেকের মুখেই শুনে থাকবেন, “শরীর খারাপ হয়েছে!” আরে বাবা, ঋতুস্রাবের মতো একটা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে ‘শরীর খারাপ’ কেন বলা হয়, তা আজও আমার মাথায় ঢোকেনি। এমনকী, period নিয়ে প্রচুর কুসংস্কার এবং ভুল ধারণা আছে আমাদের সমাজে! যেমন-

ঋতুস্রাব চলাকালীন টক খাওয়া যাবে না
ঋতুস্রাব চলাকালীন আচার বা কাসুন্দি ইত্যাদি ছোঁওয়া যাবে না

ঋতুস্রাব চলাকালীন ফল খাওয়া যাবে না, তাতে নাকি রক্তপাত বেশি হয়!
ঋতুস্রাব চলাকালীন ঠাকুরঘরে বা মন্দিরে ঢুকবেন? এত বড় সাহস? না বাবা, পাপ হবে!
ঋতুস্রাবে মেয়েদের শরীর থেকে যে রক্তপাত হয় তা ‘খারাপ রক্ত’!

তবে যাই হোক, নানা ধরনের গঠনমূলক প্রচারের সাহায্যে আজ কিছুটা হলেও এই সব কুসংস্কার মানুষের মন থেকে দূর করা গেছে। তবে আজও কিন্তু অনেকেই স্যানিট্যারি ন্যাপকিনের বদলে কাপড়ের প্যাড ব্যবহার করেন তাঁদের ঋতুস্রাব চলাকালীন। অনেকেই জানেন না বা জানলেও পরিচ্ছন্নতার দিকে অতটা গুরুত্ব দেন না। Period চলাকালীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকলে তা থেকে কিন্তু নানা রোগ হতে পারে এবং তখন কিন্তু সত্যি সত্যিই ‘শরীর খারাপ’ হবে!

ঋতুস্রাব চলাকালীন পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে যেসব রোগ হতে পারে

ইউ টি আই অথবা Urinary Track Infection অর্থাৎ যোনিপথে জীবাণুর সংক্রমণ
এইচ পি ভি বা Human Papilloma Virus দ্বারা আপনি আক্রান্ত হতে পারেন

এই ধরনের সংক্রমণ থেকে প্রেগন্যান্সিতেও সমস্যা আসতে পারে
সাইভাইক্যাল ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে
ঋতুস্রাব চলাকালীন কীভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন (Menstual hygiene)

এতক্ষণে আশা করি বুঝতে পারছেন যে, ঋতুস্রাব চলাকালীন hygiene বজায় রাখাটা কেন জরুরি! কিন্তু ঠিক কীভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন, সেটা অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না। কয়েকটা ছোট-ছোট বিষয় মাথায় রাখলেই কিন্তু আপনার কাজ হয়ে যাবে।

ঋতুস্রাব চলাকালীন ভুলেও কাপড়ের প্যাড ব্যবহার করবেন না। এক এবং একমাত্র স্যানিটারি ন্যাপকিনই ব্যবহার করুন।

কারও বেশি রক্তপাত হয় আবার কারও কম। স্রাবের পরিমাণ যাই হোক না কেন, প্রতি চার ঘণ্টা অন্তর প্যাড বদলান
এই সময় পাবলিক টয়লেট ব্যবহার না করাই ভাল। তবে একান্ত যদি নিরুপায় হন, সেক্ষেত্রে মূত্র ত্যাগ করার আগে খুব ভাল করে জায়গাটা পরিষ্কার করে নিন।

সব সময় ব্যাগে ডিসিনফেক্টর অথবা ছোট একটা ডেটলের বোতল রাখুন। প্রয়োজনে জলের সঙ্গে সামান্য ডেটল মিশিয়ে জায়গাটা ভাল করে ধুয়ে তারপরই ইউরিন পাস করুন।

যদি আপনার প্যাড ব্যবহার করে র‍্যাশ বেরোয়, সেক্ষেত্রে সাবান ভুল করেও ব্যবহার করবেন না। যোনিপথ পরিষ্কার করার জন্য সঠিক পি এইচ ব্যালান্সযুক্ত লিকুইড ব্যবহার করুন।

প্রতিদিন খুব ভাল করে স্নান করুন।
দিনে সম্ভব হলে যত বার প্যাড বদলাবেন সঙ্গে প্যান্টিও বদলান।

অন্তর্বাস গরমজলে ডেটল দিয়ে কাচ।
ব্যবহার করা প্যাড ভাল করে কাগজে মুড়ে ডাস্টবিনে ফেলুন, কমোডে ফেলে ফ্লাশ করবেন না!

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *