মাথার কাছে স্মার্ট ফোন রেখে কখনোই ঘুমাবেন না, জানুন কেন?

তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে স্মার্ট ফোন এখন হাতে হাতে। দৈনন্দিন জীবনে একটি মুহূর্ত এখন এই স্মার্ট ফোন ছাড়া ভাবা যায় না। এর মাধমে যোগাযোগ বেবস্থার অনেক উন্নতি সাধন হয়েছে। জীবজগতের সকল প্রাণীদের মধ্যে মানুষের কৌতূহল সবচেয়ে বেশি। আর সেই কৌতূহলের ফলই হল বিজ্ঞান। মোবাইল ফোন বিজ্ঞানের একটি যুগান্তকারী আবিস্কার, যা আজ মানুষের জীবনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বস্তু। আর আমাদের অপার কৌতূহল নিরসনের হাতিয়ারও বটে।

আমরা সকলেই আমাদের মোবাইল ফোনটিকে সদা সর্বদা আমাদের সাথে সাথে বহন করি। অনেকে স্নান ঘরেও মোবাইল নিয়ে যান। এ তো গেল যতক্ষণ আপনি জেগে থাকেন ততক্ষণের কথা। কিন্তু ঘুমনোর সময় আপনার এই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোনটি আপনি কোথায় রেখে ঘুমোতে যান? হাতের পাশে? বালিশের তলায়? যদি তাই করে থাকেন, জানবেন তাহলে আপনি অজান্তেই এক ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন।

আমাদের সকলের ঘুমিয়ে পড়া থেকে জেগে ওঠা এই চক্রটি ঘটে আমাদের দেহের ভেতরে নিঃসৃত মেলাটোনিন হরমোনের প্রভাবে। সাদা কথায়, আমাদের ঘুমিয়ে পড়া থেকে জেগে ওঠা পরিচালনা করে মেলাটোনিন হরমোন।

মোবাইল ফোন থেকে যে নীল আলোটি বিচ্ছুরিত হয়, সেটি কৃত্রিম সূর্যালোকের ভুমিকা পালন করে। এই নীল আলোটির কারণে আপনার ব্রেইন দিন রাতের পার্থক্য করতে গিয়ে কনফিউসড হয়ে পড়বে। ফল স্বরূপ আপনার দেহে মেলাটোনিন হরমোনটি স্বাভাবিকভাবে নিঃসৃত হবে না।

সেই জন্য আপনার ঘুমে বিঘ্ন ঘটবে। অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে আপনার শরীরে নানারকম রোগের উপসর্গ দেখা দেবে। যেমন পেটের গণ্ডগোল, মাথা ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, পিঠ ব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, সর্বদা ক্লান্তির ভাব, ইনসমনিয়া আরও অনেক কিছু। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে আপনি একটি দীর্ঘ, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করার সুযোগ হারাবেন।

অর্থাৎ আপনার আয়ু ক্রমশ কমতে থাকবে। উপরন্তু যতদিন বাঁচবেন ততদিন এই সকল উপসর্গের ফলে অসুস্থ হয়ে বাঁচবেন। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন মোবাইল ফোনটিকে অন্য ঘরে রেখে ঘুমোতে যান আর তা সম্ভব না হলে নোটিফিকেশান অফ করে মাথা থেকে দূরে রাখুন।

এবং ঘুমোতে যাওয়ার কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন ঘাঁটা বন্ধ করুন। তাহলেও কিছুটা সুরাহা মিলবে। বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ মেনে চলুন আর দীর্ঘ ও সুস্থ, সুন্দর জীবন যাপন করুন।

তথ্যসূত্রঃ পাপাঙ্গুল

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *