কুমড়ার বীজের যে পুষ্টিগুণের কথা আপনি আগে জানতেন না

শরীর সুস্থ ও সবল রাখাটা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা মোটামুটি সবাই জানি যে চিকিৎসকরা বারবার বলছেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে। বেশি করে শাকসবজি খেতে বলছেন তারা।

তবে কোন খাবার খেলে এই সময় বেশি পুষ্টি মিলবে, তা অনেকেরই অজানা। আজ এমনই একটি সবজি সম্পর্কে জানাবো যার বীজ প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। কেন রাখবেন, নিজেই জেনে নিন-

সবার পরিচিত এবং বারোমাসই বাজারে পাওয়া যায় এমন একটি সবজি হলো মিষ্টি কুমড়া। অনেকেরই পছন্দের এই সবজিটি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সবজির বীজ আমরা ফেলে দিয়ে থাকি। পুষ্টিবিদরা কিন্তু বলছেন, ডায়েটে ওই বীজ থাকলে তা ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। জেনে নিন এই বীজের উপকারিতা সম্পর্কে-

>কুমড়ার বীজে আছে সেরোটোনিন; যা ঘুমের ওষুধেরই সমতুল্য। তাই এটি খেলে অনিদ্রার সমস্যা দূর হতে পারে।

>পেশীর জন্য অত্যন্ত উপকারী কুমড়ার বীজ। বাতের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে এটি।

>ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী কুমড়ার বীজ। শরীরে নিয়মিত ইনসুলিন সরবরাহ করে এটি। ফলে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

> কুমড়ার বীজ রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকেও রক্ষা করে এটি।

>ওজন কমানোর জন্য অত্যন্ত ভালো কুমড়ার বীজ। শর্করার বিকল্প হওয়ায় দ্রুত ক্ষুধা মেটায়। শরীরে ওজন কমাতেও যা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে।

>কুমড়ার বীজে রয়েছে জিঙ্ক; যা পৌরষত্ব বাড়ায় ও প্রোস্টেটের সমস্যা প্রতিরোধ করে।

> কুমড়ার বীজে রয়েছে কিউকরবিটিন। রয়েছে ভিটামিন সি; যা চুলের বৃদ্ধির জন্য আদর্শ।

> কুমড়ার বীজেই রয়েছে শরীরের অপরিহার্য ফ্যাট। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের অন্যতম উৎস কুমড়ার বীজ। শরীরে নিজে থেকে এটি তৈরি হয় না। তাই খাবারের মাধ্যমে এটি যাতে শরীরে যায়, খেয়াল রাখতেই হবে সে দিকে।

> প্রতিদিন অল্প কয়েকটা কুমড়ার বীজ খেতে পারলে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। প্রদাহ কমাতে এবং ওবেসিটি বা স্থূলত্ব রুখতে সাহায্য করে এটি।

> কুমড়ার বীজে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে। ফাইবার কোলনের ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাদ্যের জোগান দেয়। ক্রনিক রোগেরও উপশম করে এই বীজ।

> ভালো কোলেস্টেরল অর্থাৎ হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল) এবং খারাপ কোলেস্টেরল অর্থাৎ লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন (এলডিএল) এই দুই ধরনের কোলেস্টেরলই তৈরি হয় লিভারে। এলডিএলের ফলে ধমনীর প্রাচীরে তৈরি হওয়ায় ব্লকেজ তৈরি হয়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে এইচডিএল খারাপ কোলেস্টেরল সরিয়ে রিসাইকেলে সাহায্য করে। কুমডোর বীজ এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করে।

> পিইউএফএ এবং লিপোফিলিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণেও এই বীজ স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

> কুমড়ার বীজে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ফ্রি র‌্যাডিকেল ধ্বংস করে এটি। ফ্রি র‌্যাডিকেল কোষের প্রোটিন, ডিএনএ, সেল মেমব্রেনের ইলেকট্রন ‘চুরি’ করে, অক্সিডেশনের মাধ্যমে। এই ফ্রি র‌্যাডিকেলের মোকাবিলা করে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট।

এসব কারণে কুমড়ার বীজকে সুপারফুড বলা যেতেই পারে। কম ক্যালোরি, ভরপুর পুষ্টিতে ভরা কুমড়ার বীজ তাই ফেলে দেবেন না। বরং বীজ বেটে রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *