আপনার ছোট সোনামণিদের জন্য রইল স্বাস্থ্যকর ও সহজ ১০ টি খিচুড়ি রেসিপি

শিশুর জন্য খিচুড়ির রেসিপি(Khichdi Recipes For Babies)

জানেন কি, শুধু আমার-আপনার মনই নয়, এই খিচুড়িই মন-পেট ভরিয়ে দিতে পারে আপনার বাড়ির ছোট্ট ছানারও! সাধের খিচুড়িই হয়ে উঠতে পারে সলিড খাবার শুরুর সময় ওর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ খাবার। নামের বাহার যেমন আছে, তেমনই বাহার আছে রেসিপিরও! ছোট্ট ছানার একঘেয়েমি কাটাতে পাল্টে পাল্টে সেই রেসিপিগুলোই বানিয়ে দিন ওকে। চেটেপুটে খাবে ছানা, গুনগুনিয়ে উঠবে ‘খিচুড়ি বিনা জিয়া যায় না…’

1. সাদামাটা খিচুড়ি (Plain Khichdi):

ছয় মাসের ছানাপোনার জন্য এই রেসিপিটাই সবচেয়ে ভালো, সবচেয়ে উপকারী। সবজি-টবজি শুরুর আগে সাদামাটা এই খিচুড়িই খাইয়ে দেখুন ওকে। বানাতে সহজ আবার হজমেও সহজ!

উপকরণ (Ingredients):

মুগ ডাল- ১ টেবিল-চামচ (ধুয়ে, শুকিয়ে নেওয়া)
চাল- ১ টেবিল-চামচ

জল- আধ গেলাস
এক চিমটে হলুদগুঁড়ো, এক চিমটে লবণ

পদ্ধতি (Method):

প্রেসার কুকারে সমস্ত উপকরণ দিয়ে ৪টে সিটি দিন।
ঢাকনা খুলে ঠান্ডা করে নিন।
ব্লেন্ডারে পেস্ট করে বাচ্চাকে খাওয়ান।

2. সবজি দেওয়া খিচুড়ি (Mix vegetable khichdi)

এইখানে ইচ্ছেমতো পুষ্টিকর, স্বাস্থ্যকর, ভিটামিন-সমৃদ্ধ সবজি মেলাতে পারেন আপনি। ধীরে ধীরে এই খিচুড়ির হাত ধরেই জিরে, তেজপাতার মতো মশলার সাথে পরিচয় করাতে পারেন একরত্তির।

উপকরণ (Ingredients):

মুগ ডাল- ১ টেবিল-চামচ
চাল- ১ টেবিল-চামচ

জল- ১ কাপ
আপনার পছন্দের সবজি- আধ কাপ, মিহি করে কুচনো
এক চিমটে লবণ, এক চিমটে হলুদগুঁড়ো

পদ্ধতি (Method):

সমস্ত উপকরণ প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করে নিন। ৪টে সিটি পড়বে।
ঢাকনা খুলে ঠান্ডা করে নিন।
ব্লেন্ডারে পেস্ট বানিয়ে বাচ্চাকে খাওয়ান।

3. পালং শাকের খিচুড়ি (Spinach khichdi)

আপনার কুচোটা ৮ মাসের গণ্ডি পেরোলে এই রেসিপিটা ট্রাই করতেই পারেন। পালং শাকের পুষ্টিগুণ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। এর থেকেই ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন-এ, সেলেনিয়ামের মতো উপাদান পাবে শিশুর শরীর।

উপকরণ (Ingredients):

মুসুর ডাল- ১ টেবিল-চামচ
চাল- ১ টেবিল-চামচ

পালং পাতা- আধ কাপ (ভালো করে ধুয়ে, কুচনো)
জল- আধ কাপ
এক চিমটে লবণ, এক চিমটে হলুদগুঁড়ো

পদ্ধতি (Method):

প্রেসার কুকারে সমস্ত উপকরণ সেদ্ধ করে নিন। ৪টে সিটি পড়বে।
ঢাকনা খুলে ঠান্ডা করে নিন।
হাতে চটকে নিয়ে বেবিকে খাওয়ান।

4. ডালিয়ার খিচুড়ি (Porridge khichdi)

চটপট, সুস্বাদু খিচুড়ি যদি বানাতে চান, এই রেসিপিটা তবে আপনারই জন্য। ডালিয়া অর্থাৎ ভাঙা গম সবচেয়ে ভালো যায় মুগ ডালের সাথে। বানিয়ে দেখুন তো পুঁচেকটার ভালো লাগল কি না!

উপকরণ (Ingredients):

ঘী- আধ চা-চামচ
এক চিমটে হিং, এক চিমটে জিরেগুঁড়ো

পেঁয়াজ- আধখানা (কুচনো)
আপনার পছন্দের আধ কাপ কুচনো সবজি (ভালো করে ধোওয়া)
ডালিয়া- ১ টেবিল-চামচ

এক চিমটে লবণ, এক চিমটে হলুদগুঁড়ো
জল- আধ কাপ

পদ্ধতি (Method):

প্রেসার কুকারে ঘী গরম করে নিন।
হিং, জিরে ফোড়ন দিন।

পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন বাদামি করে।
সবজি মেলান। নেড়েচেড়ে ঢেলে দিন ডাল-ডালিয়াও।

কিছুক্ষণ নাড়তে থাকুন।
লবণ, হলুদ, জল মিশিয়ে প্রেসার কুকার ঢাকা দিন।
৪টে সিটির পর নামিয়ে নিন।

5. মুসুর ডালের খিচুড়ি (Masoor dal khichdi)

বাঙালি ঘরে ঘরে এই খিচুড়িই বোধহয় সবচেয়ে বেশি রাঁধা হয়। ১০ মাসের শিশুর জন্যও এটা খুবই উপকারী। দেখে নিন রেসিপি!

উপকরণ (Ingredients):

মুসুর ডাল- ১ টেবিল-চামচ
চাল- ১ টেবিল-চামচ

পছন্দের কুচনো সবজি- আধ কাপ
জল-আধ কাপ
এক চিমটে লবণ, এক চিমটে হলুদগুঁড়ো

পদ্ধতি (Method):

প্রেসার কুকারে সমস্ত উপকরণ সেদ্ধ করে নিন। ৪টে সিটি পড়বে।
ঢাকনা খুলে ঠান্ডা করে নিন।

ঘী মিলিয়ে মিহি করে চটকে নিন।
ফুঁ দিয়ে দিয়ে বাচ্চাকে খাওয়ান।

6. টমেটো খিচুড়ি (Tomato khichdi)

মাঝেসাঝে, স্বাদের বদল করতে টমেটো খিচুড়ি বানিয়ে দিন বাচ্চাকে। হয় মুগ ডাল কিংবা তুরের ডাল ব্যবহার করতে পারেন এর জন্য়।

উপকরণ (Ingredients):

মুগ ডাল/ তুর ডাল- ১ টেবিল-চামচ
চাল- ১ টেবিল-চামচ
জল- আধ কাপ

ঘী- আধ চা-চামচ
আধখানা পেঁয়াজ- মিহি করে কুচনো

আধখানা টমেটো- মিহি করে কুচনো
গোটা জিরে- অল্প

পদ্ধতি (Method):

প্রেসার কুকারে ঘী গরম করে নিন।
গোটা জিরে, পেঁয়াজ দিয়ে নাড়াচাড়া করুন।

টমেটা মিলিয়ে নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না নরম হয়।
এবার চাল, ডাল, হলুদ, লবণ, জল মেলান।
প্রেসার কুকারে ৪টে সিটি দিয়ে নামিয়ে নিন।

7. আলু-তড়কা খিচুড়ি (Potato tadka khichdi)

হলফ করে বলতে পারি, এই রেসিপিতে আপনার ছানার মন গলবেই গলবে। কেননা, অধিকাংশ বাচ্চার মতোই আলু খেতে বড্ড ভালোবাসে আপনার বাচ্চাও। আলু-তড়কা খিচুড়ি বানাতে যেমন সহজ, তেমনই পুষ্টিগুণেও ভরপুর।

উপকরণ (Ingredients):

তুর ডাল- ১ টেবিল-চামচ
চাল- ১ টেবিল-চামচ

ছোট আলু- ১টা, কুচনো
জল- ১ কাপ

এক চিমটে গোটা জিরে, এক চিমটে হিং
এক চিমটে লবণ, এক চিমটে হলুদগুঁড়ো

পদ্ধতি (Method):

প্রেসার কুকারে ঘী গরম করে নিন।
গোটা জিরে, হিং ফোড়ন দিন।

আলু কুচি, হলুদগুঁড়ো, লবণ দিয়ে নাড়াচাড়া করুন।
ডাল, চাল, জল মিশিয়ে প্রেসার কুকার ঢাকা দিন।
৪টে সিটি হলে নামিয়ে নিন।

8. হরেক ডালের খিচুড়ি (Mix dal khichdi)

এই খিচুড়িতে একই সঙ্গে সব ডালের উপকারী গুণগুলো পেয়ে যাবে আপনার শিশু। সাদামাটা খিচুড়ির যে রেসিপিটা প্রথমে বললাম, এটা বানানোর নিয়মও একই। তফাৎ শুধু, একটা নয় হরেক ডালের ব্যবহার হবে এখানে!

উপকরণ (Ingredients):

মুসুর ডাল, তুর ডাল, মুগ ডাল- সমপরিমাণে
চাল- ১ টেবিল-চামচ

জল- ১ কাপ
ঘী- আধ চা-চামচ
এক চিমটে লবণ, এক চিমটে হলুদগুঁড়ো

পদ্ধতি (Method):

প্রেসার কুকারে সমস্ত উপকরণ দিয়ে ৪টে সিটি দিয়ে নিন।
ঢাকনা খুলে ঠান্ডা হতে দিন।
ঘী ছড়িয়ে, হাতে চটকে বাচ্চাকে খাওয়ান।

9. ওটসের খিচুড়ি (Oats Khichdi)

স্বাস্থ্যকর ফাইবার আর শর্করার গুণে সমৃদ্ধ ওটস। এর থেকেই সারাদিনের প্রয়োজনীয় এনার্জি পেয়ে যাবে ছোট্ট শিশু। রেসিপিটা হাতিঘোড়া এমন কিছুই নয়, চালের বদলে ওটস দিন খালি। অন্য সবজির সাথে সেদ্ধ করা, চটকে নেওয়া মিষ্টি আলুও মেলাতে পারেন আপনি। স্বাদ বাড়বে বই কমবে না!

উপকরণ (Ingredients):

ওটস- ১ টেবিল-চামচ
মুগ ডাল- ১টেবিল-চামচ

কুচনো সবজি- আধ কাপ (ভালো করে ধোওয়া)
মিষ্টি আলু- সেদ্ধ করে চটকানো
লবণ ও হলুদগুঁড়ো

পদ্ধতি (Method):

ওটস, ডাল, সবজি, লবণ, হলুদগুঁড়ো দিয়ে প্রেসার কুকারে বসিয়ে দিন। ৪টে সিটি হবে।
ঢাকনা খুলে ঠান্ডা করে নিন।
চটকানো মিষ্টি আলু মিলিয়ে আরও একবার চটকে বেবিকে খাওয়ান।

10. দইয়ের খিচুড়ি (Curd khichdi)

বাচ্চার যদি পেট খারাপ হয়, তবে দই-খিচুড়িই ওর জন্য সবচেয়ে ভালো! শুধুই যে স্বাস্থ্যকর তা নয়, খেতেও বেশ ভালোই লাগে দই দেওয়া খিচুড়ি।

উপকরণ (Ingredients):

চাল- ১ টেবিল-চামচ
মুগ ডাল- ১ টেবিল-চামচ

ঘী- আধ চা-চামচ
এক চিমটে লবণ, এক চিমটে হলুদগুঁড়ো

দই- ১ টেবিল-চামচ
গোটা জিরে ও কারিপাতা

পদ্ধতি (Method):

সাদামাটা খিচুড়ির রেসিপি দেখে আগে খিচুড়ি বানিয়ে ফেলুন (উপরে দেখুন)।
এবার ফেটানো দই মেলান এতে।

সসপ্যানে ঘী দিয়ে জিরে, কারিপাতা ফোড়ন দিন।
খিচুড়িতে এই তড়কা মিলিয়ে, চটকে খাওয়ান বাচ্চাকে।

ঝটপট রেসিপিগুলো পড়া সারা তো? এবার তবে বানিয়ে ফেলুন দিকি। ছানা চেটেপুটে খেলো, নাকি মুখ বেঁকিয়ে রাগ দেখালো, জানাতে ভুলবেন না যেন!

একজন মা হয়ে অন্য মায়েদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চান? মায়েদের কমিউনিটির একজন অংশীদার হয়ে যান। এখানে ক্লিক করুন, আমরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *